বাংলাখবর

রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জেডি ভ্যান্স!

বাংলা খবর ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জোরালো করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও জননিরাপত্তার মতো ইস্যুতে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে চাইছেন তিনি।সংবাদ দেখুন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। এ পরিস্থিতিতে ভ্যান্স ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসনবিষয়ক অবস্থান এড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে সামনে আনেন।

গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনের পর দেওয়া ভ্যান্সের ছয়টি বক্তৃতা পর্যালোচনা করে রয়টার্স বলেছে, তিনি দলীয় প্রচারে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, সংযত পররাষ্ট্রনীতি ও জননিরাপত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার উপদেষ্টাদের ধারণা, এসব বিষয়ে ভ্যান্সের অবস্থান ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

৪২ বছর বয়সী ভ্যান্স এখনো ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। ট্রাম্পও তাকে সমর্থন জানাননি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকগোষ্ঠী ধরে রাখার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক বিতর্ক ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে নিজেকে আলাদা করাই হবে ভ্যান্সের বড় চ্যালেঞ্জ।সংবাদ দেখুন

নির্বাচনের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ তুলে ধরেন। তিনি ইরান যুদ্ধকে পরাজয়ের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে বিবেচনার পরামর্শ দেন।

প্রকাশ্যে এই প্রথম ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেন ভ্যান্স। যুদ্ধ শুরুর পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা ছিল। ট্রাম্প তার আহ্বানে ইরানে হামলা চালান এবং পরে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান।

তবে হোয়াইট হাউস ও ভ্যান্সের যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের ইঙ্গিত নয়। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসও পোস্টটি দেওয়ার আগে বিষয়টি জানতেন।

ট্রাম্প অবশ্য ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াকে নির্বাচনে পরাজয়ের একটি কারণ হিসেবে স্বীকার করেছেন। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি ভিন্ন কিছু করতাম না।’

ভ্যান্সের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা। রিপাবলিকান কৌশলবিদ মাইকেল রিচির মতে, ভ্যান্সের বক্তব্য রক্ষণশীলদের মধ্যে ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং ২০২৮ সালের নির্বাচনে দলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

রিচি বলেন, ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা করাই ভ্যান্সের একমাত্র লক্ষ্য নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে চাইছেন তিনি।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ভ্যান্সের রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, সেখানেও দলটি হেরেছে। তার সমর্থিত কিছু প্রচারকৌশলও উল্টো ফল দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে ওহাইওর গভর্নর পদপ্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে বিজয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে অন্য সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীরাও নিজেদের মত জানিয়েছেন। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দল যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের মতে, প্রার্থীরা ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ উপেক্ষা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনগুলোতে ভ্যান্স ভোটারদের কাছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচিতে জালিয়াতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এসব বক্তব্যের সঙ্গে অভিবাসননীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয় যুক্ত করেন তিনি। তবে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম এবং ট্রাম্পের প্রসঙ্গ প্রায় এড়িয়ে গেছেন।

উত্তর ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী জনসভায় ভ্যান্স বলেন, তিনি এমন একটি দেশ চান, যেখানে তার সন্তানেরা পরিবার গড়ে তুলতে পারবে এবং দেশটি হবে সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও স্বচ্ছল। নিজের জন্য যে ভবিষ্যৎ চান, সবার জন্যও তাই চান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ ইগর ভলস্কির মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ভ্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ট্রাম্পের সমর্থন ধরে রেখেও সাধারণ নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা। কারণ, ডেমোক্র্যাটরা তাকে কিংবা অন্য কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে প্রচার চালাতে পারে।সংবাদ দেখুন

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভ্যান্সের সাম্প্রতিক অবস্থান তাই শুধু পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ নয়, ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান নেতৃত্বে নিজের জায়গা তৈরির প্রচেষ্টাও বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এই বিভাগের আরও খবর

ইরানের অস্ত্র আমদানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
ইরানের অস্ত্র আমদানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন

ইরানের অস্ত্র আমদানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জেডি ভ্যান্স!
রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জেডি ভ্যান্স!

রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জেডি ভ্যান্স!

যুক্তরাষ্ট্রে সিটিব্যাংক কার্যালয়ে গোলাগুলি, হামলাকারীসহ নিহত ২
যুক্তরাষ্ট্রে সিটিব্যাংক কার্যালয়ে গোলাগুলি, হামলাকারীসহ নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রে সিটিব্যাংক কার্যালয়ে গোলাগুলি, হামলাকারীসহ নিহত ২

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী অ্যাবের কাওয়াস
মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী অ্যাবের কাওয়াস

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী অ্যাবের কাওয়াস

ট্রাম্পের দলের বড় পরাজয়ের মধ্যেই ডলারের দাম একমাসে সর্বনিম্ন
ট্রাম্পের দলের বড় পরাজয়ের মধ্যেই ডলারের দাম একমাসে সর্বনিম্ন

ট্রাম্পের দলের বড় পরাজয়ের মধ্যেই ডলারের দাম একমাসে সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আব্দুল এল সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আব্দুল এল সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আব্দুল এল সায়েদ

পঞ্চমবারের মতো দুই মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব নির্বাচিত
পঞ্চমবারের মতো দুই মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব নির্বাচিত

পঞ্চমবারের মতো দুই মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব নির্বাচিত

সিনেটের পর এবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিলো ডেমোক্রেটিক পার্টি
সিনেটের পর এবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিলো ডেমোক্রেটিক পার্টি

সিনেটের পর এবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিলো ডেমোক্রেটিক পার্টি

মার্কিন নির্বাচন : এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প
মার্কিন নির্বাচন : এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

মার্কিন নির্বাচন : এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

ইসরায়েলকে সামরিক অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, বললেন ট্রাম্প
ইসরায়েলকে সামরিক অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, বললেন ট্রাম্প

ইসরায়েলকে সামরিক অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয় ছাড়াচ্ছে ১২ বিলিয়ন ডলার, ভাঙছে সব রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয় ছাড়াচ্ছে ১২ বিলিয়ন ডলার, ভাঙছে সব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয় ছাড়াচ্ছে ১২ বিলিয়ন ডলার, ভাঙছে সব রেকর্ড