বাংলাখবর
এআইয়ে লাগাম টানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা
বাংলা খবর ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণে লাগাম টানার পরিকল্পনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। আইনপ্রণেতা, কংগ্রেসের সহকারী এবং এ খাতের বিভিন্ন অধিকারকর্মী জানান, জানুয়ারি থেকে একের পর এক নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত বর্তমান কংগ্রেসের অবস্থান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান কংগ্রেসে আইনপ্রণেতারা মূলত এআই প্রযুক্তির উন্নয়নকে উৎসাহিত করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। প্রযুক্তিটির কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও তারা পাস করেননি। এমন এক সময়ে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, যখন ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সেগুলোর বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদার বিরুদ্ধে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল।
ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা এমন কিছু বিল উত্থাপন করতে চান, যার মাধ্যমে ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। পাশাপাশি উন্নত এআই ব্যবস্থার স্বাধীন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং এআই প্রতিষ্ঠানের পণ্য ব্যবহারে কোনো ক্ষতি হলে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করা যাবে, তা স্পষ্ট করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
তবে হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকা অবস্থায় এসব আইন পাস হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। কারণ, এআই প্রযুক্তির জন্য বাধ্যতামূলক বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান তিনি বারবার নাকচ করেছেন।
গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, যেসব মার্কিন অঙ্গরাজ্য এআই প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে ‘ধনী হতে চায়’, তিনি তাদের সঙ্গে কাজ করবেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও বাইরের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেছেন, কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে তাদের দল এসব প্রস্তাব সামনে আনার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা এবং এআই ব্যবস্থার কারণে বাস্তব জীবনে ক্ষতি হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সমর্থন গড়ে তোলাও সম্ভব হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্যতম বড় ব্যবধানে জয় উদযাপন করছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে আলাস্কা ও মিসিসিপির দুটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ায় এখনও ফল ঘোষণা করা হয়নি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, সবার মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আসন দুটি। অন্যদিকে, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদেরও ২৫টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি। এগুলো বাদেই রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, সিনেটে দলটির আসন সংখ্যা ৫৪, আর রিপাবলিকানদের ৪৪। অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৩টি। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৫৭টি আসন।
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে দলটি। এখনও কয়েকটি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। এর মধ্যে কলোরাডোর চতুর্থ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট অন্যতম। আসনটি বর্তমানে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য লরেন বোয়েবার্টের দখলে।
এ ছাড়া ৩৬টি গভর্নর পদে নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন এবং ব্যালটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়েছে। এসব নির্বাচন ও ভোটে বেশ কিছু নতুন নজিরও তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ক্ষমতায় যে আরও দুই বছর আছেন, সে সময়টিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করবেন। তবে প্রয়োজন হলে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদলের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের পদ থেকে সরে যেতে পারেন– এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইট হাউস তা নাকচ করেছে। রুবিও নিজে সরে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন হেগসেথও।
তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য রিপাবলিকানদের একাংশ হেগসেথের সমর্থন করা ইরান যুদ্ধকে দায়ী করছেন।
ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক ও ন্যাশনাল গার্ডের কর্মকর্তা হেগসেথ ২০২৫ সালের শুরুর দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত হেগসেথের পাশে রয়েছেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক ও মুখপাত্র হেগসেথ।
কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় কোনো বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইরান যুদ্ধের জন্য অর্থের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখন তাদের হাতে।
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর আংশিক অবরোধ আরোপ করায় সংঘাতটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে বিশেষ করে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক জয়ের প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ।’ ট্রাম্পও তাঁর এই বক্তব্যকে ‘অনেকাংশে সত্য’ বলে স্বীকার করেছেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে হেগসেথ স্বীকার করেন, তিনি চাপের মুখে রয়েছেন। তবে নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে যুদ্ধকে ‘সাহসী ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনার খবর নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানান তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে তথ্যটি জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কাজ করাই সব সময় আমার পরিকল্পনা ছিল।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন রুবিও। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তাঁকে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে বৃহস্পতিবার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে চাননি রুবিও। তিনি বলেন, ‘২০২৮ সাল নিয়ে আমি আর কথা বলব না, একেবারেই না।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রশাসন ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন রুবিও। প্রতিবেদনে বলা হয়, পদত্যাগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তবে তাঁকে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই বিভাগের আরও খবর
এআইয়ে লাগাম টানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা
এআইয়ে লাগাম টানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কারাবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনা
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কারাবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনা
১০৫ বছরের ইতিহাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী ভিপি
১০৫ বছরের ইতিহাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী ভিপি
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস, একদিনেই উধাও লাখ লাখ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস, একদিনেই উধাও লাখ লাখ কোটি ডলার
ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর বাজেট ঘোষণা করছে কানাডা
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর বাজেট ঘোষণা করছে কানাডা
বিক্ষোভের ঢেউয়ে টালমাটাল ফ্রান্স, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ম্যাখোঁ
বিক্ষোভের ঢেউয়ে টালমাটাল ফ্রান্স, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ম্যাখোঁ
আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ, বললেন জেডি ভ্যান্স
আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ, বললেন জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স
বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত: জয়সোয়াল
বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত: জয়সোয়াল
ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ হ্যাক, ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের শঙ্কা
ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ হ্যাক, ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের শঙ্কা
ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ
ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ
