বাংলাখবর

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন, প্রথম টিভি বিতর্কে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

বাংলা খবর ডেস্ক : নিউইয়র্ক নগরের আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে এবার যেন জমে উঠেছে এক রাজনৈতিক নাটক। ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে দেখা গেছে চরম উত্তেজনা ও তীব্র বাকবিনিময়। শহরজুড়ে আলোচিত এই বিতর্কে উঠে এসেছে যৌন কেলেঙ্কারি, অপরাধ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো সংবেদনশীল ইস্যু। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গন ততটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

আগামী ৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে আগাম ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন—ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো, এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে তিনজনই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ চালান। বিতর্কের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদের সামনে নিজেদের পরিকল্পনা ও যোগ্যতা তুলে ধরা, কিন্তু সেটি রূপ নেয় উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধে।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই প্রথম বিতর্কে শুরু থেকেই ছিল রাজনৈতিক আগুন। জোহরান মামদানি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং কোভিড মহামারির সময়ে নার্সিং হোমে প্রবীণদের মৃত্যুর দায় নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেন। পাল্টা জবাবে কুমো বলেন, মামদানির পরিকল্পনাগুলো “আকাশকুসুম কল্পনা”—যা সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছুই নয়। অপরদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া বলেন, “ভালো যে আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, কারণ এই শহরে অপরাধের সংকট সৃষ্টি করেছে তারাই।”

৩৩ বছর বয়সী জোহরান মামদানি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে সবাইকে চমকে দিয়ে কুমোকে হারিয়ে মনোনয়ন অর্জন করেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, ভাড়ানিয়ন্ত্রণ এবং নগর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সুপারমার্কেট পরিচালনা। অন্যদিকে, ৬৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু কুমো ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কের গভর্নর ছিলেন, কিন্তু যৌন নির্যাতনের অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী করে তুললেও অতীত বিতর্ক এখনো তাঁকে তাড়া করে ফিরছে।

বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নির্বাচন নতুন মোড় নেয়। অ্যাডামস কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন না জানালেও তাঁর সরে যাওয়ায় এই তিন প্রার্থীর লড়াই এখন কেন্দ্রে। নিউইয়র্কের ৮৫ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এখন এই তিনজনের হাতে নির্ভর করছে।

এই নির্বাচনী লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জোহরান মামদানিকে “কমিউনিস্ট” আখ্যা দিয়ে হুমকি দেন—মামদানি জিতলে নিউইয়র্ক প্রশাসনের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবেন। জবাবে জোহরান বলেন, “নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলতেও, কাজ করতেও প্রস্তুত।” কুমো অবশ্য সতর্ক করে বলেন, “মামদানি জিতলে ট্রাম্প নিউইয়র্ক নগর দখল করে নেবেন।” ট্রাম্প সম্প্রতি ১,৬০০ কোটি ডলারের হাডসন গেটওয়ে টানেল প্রকল্প বাতিলের ঘোষণাও দেন, যা বিতর্কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

বিতর্ক চলাকালীন স্লিওয়া অভিযোগ করেন, কুমোর পক্ষ থেকে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য “লাভজনক চাকরি ও গাড়িচালক” দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—যা তিনি ঘুষ হিসেবে দেখেন। কুমো অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ধর্মীয় ইস্যুতেও উত্তেজনা তৈরি হয়। কুমো অভিযোগ করেন, জোহরান হামাসের নিন্দা না করে “ইন্তিফাদাকে বিশ্বায়ন করো” স্লোগানের সমর্থন দিয়েছেন—যার অর্থ তিনি দাবি করেন, “সব ইহুদিকে হত্যা করো।” জোহরান সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন। অপরদিকে, স্লিওয়া অভিযোগ করেন, তাঁদের দুজনের “ঘৃণা অপরাধের প্রতি নরম মনোভাব” শহরকে বিপদের মুখে ফেলছে।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিতর্কের ফলে ভোটারদের মতামতে তেমন পরিবর্তন হবে না। জোহরান মামদানি এখনো এগিয়ে আছেন ৪৬ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে, কুমো আছেন ৩৩ শতাংশে, আর স্লিওয়া পিছিয়ে ১৫ শতাংশে। ভোটারদের প্রায় ১৮–২৪ শতাংশ জানান, তাঁরা তাঁদের পছন্দ পরিবর্তন করবেন না।

আগামী ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেলিভিশন বিতর্ক। এই বিতর্কে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রোতাবিহীন অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্কের পরও নিউইয়র্কবাসীর রাজনৈতিক আগ্রহ এখন চরমে।

তথ্যসূত্র : এএফপি

এই বিভাগের আরও খবর

গাজায় ১২ ঘণ্টায় প্লাবিত ৭০ হাজার তাঁবু, বিপর্যস্ত জনজীবন
গাজায় ১২ ঘণ্টায় প্লাবিত ৭০ হাজার তাঁবু, বিপর্যস্ত জনজীবন

গাজায় ১২ ঘণ্টায় প্লাবিত ৭০ হাজার তাঁবু, বিপর্যস্ত জনজীবন

এআইয়ে লাগাম টানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা
এআইয়ে লাগাম টানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা

এআইয়ে লাগাম টানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা

ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কারাবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনা
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কারাবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনা

ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কারাবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনা

১০৫ বছরের ইতিহাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী ভিপি
১০৫ বছরের ইতিহাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী ভিপি

১০৫ বছরের ইতিহাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী ভিপি

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস, একদিনেই উধাও লাখ লাখ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস, একদিনেই উধাও লাখ লাখ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস, একদিনেই উধাও লাখ লাখ কোটি ডলার

ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর বাজেট ঘোষণা করছে কানাডা
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর বাজেট ঘোষণা করছে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর বাজেট ঘোষণা করছে কানাডা

বিক্ষোভের ঢেউয়ে টালমাটাল ফ্রান্স, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ম্যাখোঁ
বিক্ষোভের ঢেউয়ে টালমাটাল ফ্রান্স, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ম্যাখোঁ

বিক্ষোভের ঢেউয়ে টালমাটাল ফ্রান্স, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ম্যাখোঁ

আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ, বললেন জেডি ভ্যান্স
আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ, বললেন জেডি ভ্যান্স

আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ, বললেন জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স

বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত: জয়সোয়াল
বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত: জয়সোয়াল

বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত: জয়সোয়াল

ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ হ্যাক, ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের শঙ্কা
ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ হ্যাক, ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের শঙ্কা

ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ হ্যাক, ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের শঙ্কা