বাংলাখবর
জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী দলের সম্মেলন ঘিরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
বাংলা খবর ডেস্ক : জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) পূর্বাঞ্চলীয় শহর এরফুর্টে দলটির বার্ষিক সম্মেলনের বিরুদ্ধে হাজারো বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
দলটির বার্ষিক সম্মেলনে বর্তমান দুই নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালাকে আবারও নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দলটি ক্ষমতার আরও কাছে পৌঁছানোর বার্তা দিয়েছে। এ সময় হাজারো বিক্ষোভকারী ওই সম্মেলনের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এএফডির দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ঘিরে শ্রমিক ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থী দলগুলোর ডাকে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনকেন্দ্রের দিকে যাওয়ার মহাসড়ক ও বিভিন্ন সড়কে বসে অবরোধ করেন।
পুলিশ বলছে, এরফুর্ট ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন।
সম্মেলনের শুরুতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই পুনর্নির্বাচিত হন দলীয় দুই প্রধান অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালা। তাদের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেশটির জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল জোট সিডিইউ/সিএসইউকে ছাড়িয়ে এগিয়ে আছে এএফডি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে দলটির নেতারা বিক্ষোভকারীদের ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ বছর অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
ভাইডেল বলেন, ‘দেশকে রক্ষার এটিই আমাদের শেষ সুযোগ। জার্মানির অধঃপতনের বিরুদ্ধে, আমাদের দেশ ও পরিচয় রক্ষার লড়াইয়ে আরও বেশি মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’
অভিবাসন প্রশ্নে দলটির কঠোর অবস্থানেরও স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে সম্মেলনে। অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক মিনিট আগে এএফডির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেন্ড দেম ব্যাক’ শিরোনামের গান প্রচার করা হয়। সম্মেলনকেন্দ্রের ভেতরে বিক্রি করা হয় এমন পোস্টকার্ড, যাতে লেখা ছিল—‘ইউ উইল বি ডিপোর্টেড’।
দলটির সবচেয়ে কট্টর ও বিতর্কিত নেতাদের একজন বিয়র্ন হ্যোকে তার বক্তব্যে নস্টালজিয়া ও তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মিশ্রণ তুলে ধরেন। এমনকি তিনি জার্মানির মহাসড়কের শৌচাগারগুলোর অবস্থাকেও দেশের সামগ্রিক অবক্ষয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে মন্তব্য করেন।
বিয়র্ন হ্যোকে বলেন, ‘একটি মহান জার্মানি হলো এমন একটি জার্মানি, যেখানে সন্ধ্যায় শহরের পার্কে হাঁটতে যেতে ভয় পেতে হয় না। একটি মহান জার্মানি হলো এমন একটি দেশ, যেখানে বাড়ির চাবি দরজার বাইরের দিকেই ঝুলিয়ে রাখা যায়।’
আগামী সেপ্টেম্বরে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সাকসেন-আনহাল্ট ও মেকলেনবুর্গ-ফোরপমার্নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এএফডির আশা, এই নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ আরও সুগম করবে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ২৯ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। বিপরীতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সিডিইউ/সিএসইউ জোটের সমর্থন প্রায় ২২ শতাংশ। এএফডির সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থনভিত্তি সাবেক পূর্ব জার্মানির রাজ্যগুলো, যেখানে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি।
এই বিভাগের আরও খবর
বাইন্যান্স থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের সম্পদ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা
বাইন্যান্স থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের সম্পদ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা
ভারতের মণিপুরে ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ৫
ভারতের মণিপুরে ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ৫
এবার জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, সংঘর্ষ-লুটপাট
এবার জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, সংঘর্ষ-লুটপাট
বড় পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
বড় পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের নতুন উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের নতুন উদ্যোগ
ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে শ্রমিক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে শ্রমিক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ
বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ
এবার নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, বিরোধীদের সমর্থন দিতে যাচ্ছে ইহুদিবাদী দল
এবার নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, বিরোধীদের সমর্থন দিতে যাচ্ছে ইহুদিবাদী দল
আর্মেনিয়ায় পার্লামেন্টের ভেতরেই তুমুল মারামারি সংসদ সদস্যদের মধ্যে
আর্মেনিয়ায় পার্লামেন্টের ভেতরেই তুমুল মারামারি সংসদ সদস্যদের মধ্যে
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার শঙ্কা
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার শঙ্কা
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিন্নসুর: ওয়াশিংটনের চিঠি সত্ত্বেও কূটনীতি নিয়ে সংশয়ে তেহরান
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিন্নসুর: ওয়াশিংটনের চিঠি সত্ত্বেও কূটনীতি নিয়ে সংশয়ে তেহরান
ফ্রান্সে নতুন আইন : বিক্ষোভ-ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সহিংসতাকারীদের
ফ্রান্সে নতুন আইন : বিক্ষোভ-ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সহিংসতাকারীদের
